সম্পত্তি হারিয়ে ভাড়া বাসায় কাটছে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার জীবন

সম্পত্তি হারিয়ে ভাড়া বাসায় কাটছে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার জীবন

মোঃ মাসুদ রানা( কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বামীর রেখে যাওয়া আইনগত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘরছাড়া করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অসহায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি এই নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই বৃদ্ধা জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক উপজেলার কারিগরপাড়া গ্রামের জহুরুল মাস্টারের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করে আসছিলেন। তবে জহুরুল মাস্টারের প্রথম পক্ষের ছেলে মো. কবির উদ্দীন মিঠু শুরু থেকেই এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি এবং বিভিন্ন সময় তাঁদের ওপর মানসিক চাপ ও নির্যাতন চালাতেন।

সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধা এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, তাঁর স্বামীকে চিকিৎসার নামে জন্মনিরোধক ইনজেকশন দেওয়া হতো যাতে তাঁদের কোনো সন্তান না হয়। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ বছর আগে একদিন সকালে কিছু ওষুধ খাওয়ানোর পরপরই তাঁর স্বামী তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ওই রাতেই মারা যান। এই আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

নিঃসন্তান এই বিধবার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর সৎছেলে কবির উদ্দীন মিঠুর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাঁর ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র জোরপূর্বক লুটে নেওয়া হয়। এমনকি বাড়ির টিউবওয়েল ও বাথরুম ব্যবহারে বাধা দেওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ ক্রমাগত মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবশেষে তাঁকে স্বামীর ভিটা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিরুপায় হয়ে কালীগঞ্জ থানার ফয়লা মাস্টারপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

বৃদ্ধা আরও বলেন, “আমার বয়স ৬০ বছরের বেশি। কোনো উপার্জনক্ষম সন্তান বা অবলম্বন নেই। এর ওপর আমাকে হয়রানি করতে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে। অর্থাভাবে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আমার চরম কষ্ট হচ্ছে।” তিনি তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে এবং অভিযুক্ত সৎছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠু তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উনি আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী, এটি সত্য। তবে আমাদের জমি আছে মাত্র ৩ শতক। ওনাকে থাকার জন্য একটি ঘর দেওয়া হলেও উনি সেখানে থাকেন না। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এবং আদালত ওনাকে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। পূর্বে সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ-মীমাংসা করলেও উনি কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *