স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের পরিচিত মুখ অভিনয়শিল্পী আসমা ঝিলিকের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে তাঁকে নিচে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) দুপুরের দিকে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের পরিবার বিষয়টিকে একটি সম্পূর্ণ ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করছে।
নিহত আসমা ঝিলিক নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খানের সাথে ‘রংবাজ’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছিলেন।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর নিহতের বোন রেশমি আক্তার লোপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ঘটার ঠিক কিছুক্ষণ আগেও তাঁর বোন ঝিলিকের সাথে ভিডিওকলে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল তাঁর। লোপার সরাসরি অভিযোগ, স্বামী সাইফুল্লাহ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে আসমাকে নির্মমভাবে নিচে ফেলে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিনেত্রীর ভাই মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ তুলে বলেন, চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল্লাহ তাঁর বোন আসমাকে হাসপাতালের ভবন থেকে নিচে ফেলে দেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ধানমন্ডি থানা পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে এবং বর্তমানে তিনি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে রয়েছেন।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে ৮ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার কোনো সুস্পষ্ট বা চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ল্যাব টেস্ট ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।ছবি সংগৃহীত।


