আবারো ফেরিতে ওঠার সময় ছিটকে পদ্মা নদীতে বাস

আবারো ফেরিতে ওঠার সময় ছিটকে পদ্মা নদীতে বাস

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে ছিটকে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী নৈশকোচ সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছে. আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সকালের দিকে অত্যন্ত ব্যস্ততম এই ফেরিঘাটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে. তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, ফেরিতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে বাসের সব যাত্রীকে পন্টুনেই নামিয়ে দেওয়ায় এই ভয়াবহ ঘটনায় কোনো ধরনের প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যাওয়ার পর বাসটি যখন পন্টুন পার হয়ে ফেরির ভেতরে প্রবেশ করছিল, তখনই চাকা পিছলে বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি মুহূর্তের মধ্যে গভীর পদ্মায় পড়ে তলিয়ে যায়. দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ঘাট কর্তৃপক্ষ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে (হেলপার) নদী থেকে সম্পূর্ণ জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

ঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ সকালে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এসে পৌঁছায়. নিয়ম অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে বাসের ভেতরের সব যাত্রীকে হেঁটে ওঠার জন্য পন্টুনেই নামিয়ে দেওয়া হয়, যা আজ শত শত যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত ৭ নম্বর ঘাটে ছুটে আসেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় নদীর তলদেশ থেকে বাসটি টেনে তোলার জোরদার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণে ঘাটের ওই পন্টুন দিয়ে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন পারাপার বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে অন্য ঘাটগুলো দিয়ে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়. এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে একই কায়দায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুন থেকে সরাসরি নদীতে পড়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল. সেই বিগত দিনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাসের ভেতরে থাকা ২৬ জন যাত্রী নদীর পানিতে ডুবে করুণভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন. আজকের ঘটনায় কোনো হতাহত না হলেও, ফেরিঘাটের পন্টুনগুলোর ফিটনেস, জরাজীর্ণ অবস্থা এবং ফেরিতে গাড়ি ওঠার সময় চালকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং দূরপাল্লার চালকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘাট এলাকায় যানবাহন পারাপারে স্থায়ী ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবহন শ্রমিকেরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *