৬৫ বোতল ক্ষতিকারক সিরাপ ও গাঁজাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার

৬৫ বোতল ক্ষতিকারক সিরাপ ও গাঁজাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর জেলা জুড়ে মাদকের অবৈধ বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজকে এর মরণনেশা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এক বিশেষ ও সমন্বিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), যশোর জেলা কার্যালয়। আজ শনিবার (২৩ মে) দিনভর জেলার সীমান্তবর্তী চৌগাছা থানা এলাকার বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে ঝটিকা ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৬৫ বোতল আমদানি নিষিদ্ধ উইন সেরেক্স (Win Cerex) কফ সিরাপ ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অপরজনকে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাক-ঈদের এই সময়ে মাদক সিন্ডিকেটের রুট গুঁড়িয়ে দিতে ডিএনসির এই ধারাবাহিক ঝটিকা অ্যাকশন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাপ্তরিক ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, আজ সকালের দিকে প্রথম সফল ও বড় অভিযানটি পরিচালিত হয় চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামে। ডিএনসি যশোরের একটি চৌকস দল গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকাল ০৯:৩০ ঘটিকার সময় বড় কাবিলপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি মোঃ আমিনুর রহমান পুতুল (৪৬)-এর বসতবাড়িতে আকস্মিক ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে আসামির নিজ দখলীয় বসতঘর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬৫ বোতল ক্ষতিকারক ও আমদানি নিষিদ্ধ উইন সেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। ধৃত আমিনুর রহমান পুতুল বড় কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শুকুর আলীর পুত্র। সফল এই অভিযানের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক জনাব মদন মোহন সাহা বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় চৌগাছা থানায় আসামির বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।

অনুরূপভাবে, আজ বিকেলের দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে উপজেলার হাকিমপুর মাঠপাড়া এলাকায় অন্য একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান ও মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালিত হয়। বিকাল ০৫:০০ ঘটিকার সময় হাকিমপুর মাঠপাড়া এলাকায় তল্লাশিকালে ৫০ গ্রাম অবৈধ গাঁজাসহ মোঃ জামাল (৪০) নামের এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে অবরুদ্ধ করা হয়। ধৃত জামাল ওই গ্রামের মোঃ আনছার মন্ডলের পুত্র বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ডিএনসি-র উপ-পরিদর্শক জনাব মদন মোহন সাহা-এর সুনির্দিষ্ট প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলেই আদালত পরিচালনা করেন চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জি. এম. এ. মুনীব। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ধৃত আসামি জামালকে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে ১০০/- (একশত) টাকা অর্থদণ্ড এবং ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে এবং চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্টগুলো বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ডিএনসির এই বিশেষ টহল ও কঠোর আভিযানিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতেও জিরো টলারেন্স নীতিতে বলবৎ থাকবে। দণ্ডপ্রাপ্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিদের সমস্ত আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলের পর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে বলে চৌগাছা থানা পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *