ইছালীতে বাবাকে হত্যার পর এবার বিএনপি নেতা ছেলেকে হত্যার চেষ্টা!

ইছালীতে বাবাকে হত্যার পর এবার বিএনপি নেতা ছেলেকে হত্যার চেষ্টা!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর জামতলায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাসান আলীকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঈগল তেল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে ইউনুস নামের একজনকে হেফাজতে নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হলে আন্দোলনকারীরা পথ অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠিক একই স্থানে হাসান আলীর বাবা ও তৎকালীন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খলিলুর রহমান নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। বাবার মতোই তাকে হত্যার ছক আঁকা হয়েছিল বলে দাবি ভুক্তভোগীর। বিএনপি নেতা হাসান আলী অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় ঘনায় আসায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আশিক নামের এক যুবক প্রকাশ্যে রামদা নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। সঙ্গে শিহাব নামের আরও এক যুবক ছিলেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

হাসান আলীর দাবি অনুযায়ী, হামলার পেছনে থাকা আশিক তাঁর বাবা হত্যা মামলার আসামি বাছেরের ভাতিজা এবং আটক ইউনুস হচ্ছেন বাছেরের ভাই। ইউনুস ইন্ধন জুগিয়ে টাকার বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার আয়োজন করেন বলে দাবি তাঁর। অতীতে আশিক ছাত্রলীগের ও ইউনুস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে দলীয় পরিচয় পাল্টানোর চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে স্থানীয় একটি ভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, এই দুই পক্ষের মাঝে দীর্ঘদিনের পুরোনো দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল, যার জের ধরে ওই রাতে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বড় রূপ নেয়। এই বিরোধের নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির অন্য একটি পক্ষের ইন্ধন ও সমর্থন রয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *