স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর পৌর শহরের ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়নের ঠিক পেছনের সরকারি হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে সম্প্রতি পরিচালিত সুনির্দিষ্ট ও জোরালো উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন সেই শান্ত ও সবুজ এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে বিশাল সরকারি গাছ লুটপাট ও চুরির চরম মহোৎসব। স্থানীয় একদল নব্য প্রভাবশালী ক্ষমতাধর রাজনৈতিক যুবকের সুনির্দিষ্ট মুখের ‘অনুমতি’ ও প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় দিনেদুপুরে সরকারি সম্পদ লক্ষ লক্ষ টাকার বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করে নিয়ে তা প্রকাশ্য বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৩ মে) সকালবেলায় ওই এলাকা থেকে নির্বিচারে আরও একটি বিশাল ও পুরনো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সরকারি সম্পদের চরম লুটতরাজ এবং প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেন্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাউজিং এর উচ্ছেদের পর ফাঁকা হয়ে যাওয়া জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় পুরনো মেহগনি সহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান ও ঐতিহ্যবাহী গাছ সম্পূর্ণরূপে কেটে ও শিকড় উপড়ে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আজকের গাছ কাটা দৃশ্য এবং আগের ছবির মধ্যে সুস্পষ্ট ফারাক এখন পুরো এলাকা ফাঁকা ও জনশূন্য করে তুলেছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গাছ কাটা শ্রমিকদের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জোর গলায় দাবি করেন, “এগুলো আমাদের নিজেদের লাগানো গাছ, আমরাই কেটে নিয়ে যাচ্ছি, অথচ সরকারি উচ্ছেদ হওয়া ভূমিতে অবস্থিত কোনো গাছ কাটার নূন্যতম অধিকার সাধারণের নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার নব্য প্রভাবশালী ওই যুবক এবং তাঁর সিন্ডিকেট পুরো এলাকাকে জিম্মি করে নিজেদের ফায়দা লুটতে এই সরকারি সম্পদ লুটের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ভয়ংকর বিষয় হলো, ইউনিয়ন পরিষদের একেবার লাগোয়া এই বিশাল গাছ কাটা এবং লুটপাটের বিষয়ে যখন চত্বরে কর্তব্যরত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তখন তাঁরা গাছ কাটতে বাধা দিতে বা নিষেধ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তাঁরা নিজেদের চরম অসহায়ত্ব ও প্রাণের ঝুঁকি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা সরকারি কর্মচারী হলেও আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ওখান থেকে ওরাই যেভাবে ইচ্ছা লুট করে নিয়ে যাক, আমরা ওদের নিষেধ করতে পারবো না। নিষেধ করতে গেলে আমাদের নিশ্চিত চাকু (ধারালো অস্ত্র) খেতে হবে এবং প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে।” গ্রাম পুলিশের এমন আর্তনাদ ও কাপুরুষতা প্রমাণ করে যে, এলাকাটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ উদাসীন ও ঠুঁটো জগন্নাথ হিসেবে বসে রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে এই চক্রান্তকারী সিন্ডিকেট বেশ কয়টি বড় গাছ সম্পূর্ণ নাই বা উধাও করে দিয়েছে। এককালে সবুজে ঘেরা উপশহরের এই অংশটি এখন গাছহীন এক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ এভাবে প্রকাশ্যে লুট হতে দেখেও প্রশাসন ও বন বিভাগ কোনো কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করছে না; যা অপরাধীদের আরও সাহস জোগাচ্ছে। এমতাবস্থায়, যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা জরুরি ভিত্তিতে এই নব্য প্রভাবশালী লুটতরাজকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং অবশিষ্ট সরকারি গাছ ও সম্পদ রক্ষার লক্ষ্যে তাত্ক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

