বেনাপোলে প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাই মালামাল জব্দ

বেনাপোলে প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাই মালামাল জব্দ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর জওয়ানরা সীমান্ত এলাকায় এক অত্যন্ত সফল ও ঝটিকা চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। আজ শনিবার (২৩ মে) যশোর ব্যাটালিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সীমান্ত পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বিওপি (BOP) এবং বেনাপোল আইসিপি (ICP)-র মূল সীমান্ত এলাকায় এই বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সীমান্ত গলিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বস্ত্র, প্রসাধন সামগ্রী ও খাদ্যপণ্য হাতেনাতে জব্দ করতে সক্ষম হয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। জব্দকৃত এই বিশাল চোরাচালানি চালানের মোট বাজারমূল্য প্রায় ২২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকারও বেশি বলে দাপ্তরিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাক-ঈদের এই সময়ে সীমান্ত পাচারকারীদের বড় ধরনের বড় কোনো চালানের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে বিজিবির এই তাত্ক্ষণিক ঝটিকা অ্যাকশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

৪৯ বিজিবি সদর দপ্তর ও আভিযানিক নথির তথ্য অনুযায়ী, আজ বিজিবির বিশেষ টহল দল বেনাপোলের সুনির্দিষ্ট সীমান্ত লাইনে অবস্থান নেয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় ১ শত ৩০টি আধুনিক শাড়ী, ৪টি নান্দনিক থ্রী-পিস, ৩.৫ কেজি সুগন্ধি জিরা, ১ শত ১৪ প্যাকেট সুস্বাদু ফুসকা, ১০ কেজি আমসত্ত্ব, ৪ প্যাকেট আমদানিকৃত কিসমিস, ১৮ প্যাকেট সন পাপড়ী, ৮৪টি হরেক রকমের খাদ্য সামগ্রী, ১ হাজার ৩৭টি চকোলেট এবং ২ হাজার ৫ শত ৩টি ভারতীয় উন্নত ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স বা প্রসাধন সামগ্রী জব্দ করা হয়। বিজিবির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় রাষ্ট্রীয় কর ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসা এই আটককৃত চোরাচালানি মালামালের সর্বমোট সরকারি বাজারমূল্য ২২,৭০,৭৭০/- (বাইশ লক্ষ সত্তর হাজার সাতশত সত্তর) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সীমান্তে চোরাচালান রোধে এই বড় ধরনের সাফল্যের বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) সম্মানিত অধিনায়ক ও পরিচালক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান (পিএসসি) সংবাদমাধ্যমকে একটি বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন। তিনি তাঁর দাপ্তরিক বক্তব্যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল চোরাচালান রোধসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধী ও পাচার চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে আটকের নিমিত্তে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সীমান্ত জুড়ে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক আভিযানিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে বলবৎ রাখা হয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক আরও উল্লেখ করেন, এই সমন্বিত নজরদারিরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির জওয়ানরা নিয়মিতভাবে দিনরাত অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ চোরাচালানি মালামাল একের পর এক জব্দ করতে সক্ষম হচ্ছে; যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও অর্থনীতি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও সবসময় পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি তাঁর লিখিত বিবৃতিতে স্পষ্ট প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জব্দকৃত মালামালসমূহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *