হোটেলে স্ত্রীর সাথে নিজের সভাপতিকে হাতেনাতে ধরলেন সহসভাপতি

হোটেলে স্ত্রীর সাথে নিজের সভাপতিকে হাতেনাতে ধরলেন সহসভাপতি

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

বরিশাল বিভাগীয় শহরের একটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজ দলের এক নেতার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এক যুবককে তার স্ত্রীকে ওই হোটেলের সামনের রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। গত বুধবার (২০ মে) দুপুরের এই নাটকীয় ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনা

সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী ওই যুবকের নাম মো. সবুজ, যিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আর যাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত, তিনি সবুজের স্ত্রী শেওলা বেগম। সবুজের দাবি, যার সাথে তার স্ত্রী গোপনে দেখা করতে এসেছিলেন, তিনি আর কেউ নন—একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. আওলাদ ফরাজি।

স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং ঘটনা প্রত্যক্ষকারীদের মতে, বেশ কিছুদিন ধরেই স্ত্রীর আচরণে সন্দেহ পোষণ করছিলেন সবুজ। পরবর্তীতে একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বরিশাল নগরীর ‘হক’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে আকস্মিক উপস্থিত হন। সেখানে তার স্ত্রী এবং দলীয় সভাপতিকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে অবরুদ্ধ করার দাবি করেন তিনি। এরপরই ক্ষুব্ধ স্বামী হোটেল থেকে স্ত্রীকে টেনে বের করে নিয়ে আসেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বোরহানউদ্দিনের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্বামী মো. সবুজের অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তার স্ত্রীর সাথে একাধিক পুরুষের সন্দেহজনক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। কললিস্ট পর্যালোচনা করে তিনি দাবি করেন, চারজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে প্রায় ৮ লাখ সেকেন্ড কথা বলার রেকর্ড রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে তারা ভোলা থেকে একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট যোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন এবং আগে থেকেই সেখানে ওই নেতার অবস্থান করার কথা ছিল।

এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বোরহানউদ্দিন পৌর যুবদলের সভাপতি মো. হেলাল মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক জাফর মৃধার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং দলীয়ভাবে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যদি নৈতিক স্খলন বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো প্রমাণ মেলে, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এই পারিবারিক ও সামাজিক কলহের ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় কোনো থানায় লিখিত অভিযোগ কিংবা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *