মো:মাসুদ রানা,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৮ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল বলেই দেশ চীনের মতো উন্নয়নের পথে এগোতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সৌজন্য মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় রাশেদ খাঁন বলেন, “যারা আজ বিএনপিকে ভারতের দালাল বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি যদি ভারতের দালালিই করত, তবে বর্তমান সরকার প্রধান চীন সফরের আগে ভারত সফর করতেন ।”
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ টেনে তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। আমরা অবশ্যই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্ব চাই। তবে বন্ধুত্বের নামে কোনো ধরনের দাদাগিরি এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।” এ সময় সীমান্ত পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সীমান্তে বিজিবি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, “যারা আজ সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন, তারা বিগত ১৭ বছর নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের তালা পর্যন্ত খুলতে পারেননি। তারা এখন ঘরের বাইরে এসে বড় বড় কথা বলছেন।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তিনি সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় সরকারি বড় বরাদ্দ যখন বিশেষ সুবিধায় নিজের এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেটিও কি দুর্নীতির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না?”
পুশ-ইন ইস্যু ও সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, “বিজিবি এখন সাহসের সঙ্গে সীমান্তে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে। বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর ও দৃঢ় অবস্থান নেবে। বিএনপি কোনো দেশের দালালি করে না—না ভারতের, না পাকিস্তানের।”
ছাত্রশিবিরের উদ্দেশ্যে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “আজ শিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা পাকিস্তান সফর করে সেখান থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরেই তিনি বিএনপিকে ভারতের দালাল বলছেন। তাহলে দেশের মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকেই যায়, আপনারা কি তবে পাকিস্তানের দালাল?”
কালীগঞ্জের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সৌজন্য মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

