মোঃ মাসুদ রানা,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে খামারি ও কৃষকদের মেরুদণ্ড খ্যাত গরু চুরির ঘটনা। এতে চরম উদ্বেগ ও চোর আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় খামারিদের। চোরের উপদ্রব থেকে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে অনেক এলাকার গ্রামবাসীরা লাঠি-বাঁশ ও টর্চলাইট হাতে রাত জেগে পালাক্রমে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। গত মাত্র ১০ দিনে উপজেলার তিনটি গ্রাম থেকে ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই মূল্যবান সম্পদ ও যানবাহন চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রাম এলাকায় চোর চক্রের এমন বেপরোয়া উপদ্রব সত্ত্বেও থানা পুলিশের কার্যকর কোনো টহল বা নজরদারি না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সর্বশেষ গতকাল ২৬ জুন (শুক্রবার) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আগমুন্দিয়া গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলীর বাড়ির গোয়ালঘরের তালা কেটে একযোগে ৫টি উন্নত জাতের গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। একই রাতে চোর চক্রটি পার্শ্ববর্তী বুজিডাঙ্গা মুন্দিয়া গ্রাম থেকেও একটি গরু চুরি করে চম্পট দেয়।
এর আগে, গত ২০ জুন ভাতঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি বড় ষাঁড় গরু চুরি হয়। তারও আগে ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলী নামে এক প্রান্তিক কৃষকের ৪ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গাভী ও বলদ গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। শুধু গরুই নয়, ওই একই রাতে ভাতঘারা গ্রামের আব্দুস সামাদের বাড়ি থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত ‘আলমসাধু’ গাড়িও চুরি করে চোর চক্রের সদস্যরা।
এদিকে চুরির এমন হিড়িকের মধ্যে গত ২৫ জুন রাতে ভাতঘারা গ্রামে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয় গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত তিনজনের বাড়ি পাশের বনখিদ্দা গ্রামে। আটকের পর তারা দাবি করে—রাতে ডাব পাড়ার উদ্দেশ্যে তারা ভাতঘারা গ্রামে এসেছিল। তবে তাদের কাছে গরু চুরির সরাসরি কোনো আলামত বা সরঞ্জাম না পাওয়ায় পুলিশ তাদের দণ্ডবিধির ৫৪ ধারার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
ভাতঘারা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চোরের ভয়ে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমরা গ্রামের মানুষ এখন নিজেদের উদ্যোগে পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। পাহারা দেওয়ার সময় হাতেনাতে তিনজনকে ধরে পুলিশে দিলাম, অথচ পুলিশের কোনো টহল দল কখনো আমাদের গ্রামের দিকে আসে না।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, “সুনির্দিষ্টভাবে গরু চুরির বিষয়ে এর আগে ভুক্তভোগী কেউ থানায় এসে লিখিতভাবে অবহিত বা কোনো অভিযোগ করেননি। তবে লোকমুখে বিষয়টি শোনার পরপরই চুরি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ক্যাম্পগুলোকে বিশেষ নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” গ্রামবাসীদের হাতে আটক তিনজনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের উদ্ধার করে ৫৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে চুরি ও অপরাধ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


