রফিক মণ্ডল নিজস্ব প্রতিবেদক,কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একাধিক প্রেস ক্লাব ও তথাকথিত সাংবাদিক সংগঠনের অপতৎপরতায় দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্কের ঝড়। সাংবাদিকদের ভুঁইফোড় সংগঠনের ছড়াছড়ি এবং কতিপয় সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা মারাত্মক ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে বলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় বর্তমানে একাধিক প্রেস ক্লাব ও বিভিন্ন ব্যানারে সাংবাদিক সংগঠনের তৎপরতা দৃশ্যমান।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, কোনো ধরণের ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বা গণমাধ্যমের মূলনীতির চর্চা ছাড়াই অনেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ের কার্ড পকেটে নিয়ে ঘুরছেন। এরা সাংবাদিকতার নাম ও পরিচয়কে হাতিয়ার বানিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং নানাবিধ অনৈতিক বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতা পেশাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং দিনরাত পরিশ্রম করা প্রকৃত পেশাদার ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কোনো পক্ষের সরাসরি বক্তব্য কিংবা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাত্ক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলার বিশিষ্টজন ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সাংবাদিকতার মতো মহান ও দায়িত্বশীল পেশার আড়ালে যারা অপসাংবাদিকতা, জালিয়াতি কিংবা জনহয়রানিতে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপসাংবাদিকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
একই সাথে কোটচাঁদপুরের মূলধারার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে পেশাগত সততা রক্ষা করা এবং কোনো প্রতারক যেন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।


