স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত যুবদল নেতা দুলাল হোসেন রাবনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
মামলার প্রধান আসামি দুলাল হোসেন রাবন গোপালপুর উপজেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্য অভিযুক্তরা হলেন—তার সহযোগী ও উপজেলা ছাত্রদলের স্থগিত কমিটির সভাপতি রোমান আহমেদ এবং স্থানীয় আরেক ব্যক্তি।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই তরুণী দুই দফায় ধর্ষণের শিকার হন। প্রথম দফায় ধর্ষণের সময় দুলালের সহযোগী ছাত্রদল নেতা রোমান আহমেদ মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে তরুণীকে আবারও ব্ল্যাকমেইল ও নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, গত ৩ এপ্রিল তিনি গোপালপুর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তখন মামলা নেয়নি। নিরুপায় হয়ে ১৩ এপ্রিল তিনি নিজেই বাদী হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য গোপালপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর গত ১৫ এপ্রিল গোপালপুর থানা পুলিশ মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করে।
ধর্ষণের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী অনাচারের অভিযোগে দুলাল হোসেনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না।
ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর অভিযোগ, আসামিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বর্তমানে নিজ এলাকায় থাকতে পারছেন না এবং প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।


