যশোর কারাগারে কালীগঞ্জের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর

যশোর কারাগারে কালীগঞ্জের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) যশোর বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস. এম. নূরুল ইসলাম উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে এ নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের প্রয়াত মফিজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ অর্জনে অস্বাভাবিকতা দেখে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সম্পদ বিবরণী নোটিশের জবাবে সাবেক এই মেয়র নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট ৩ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৮৫১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য জমা দেন।

পরবর্তীতে দুদকের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে ব্যাংক ঋণ ও পারিবারিক খরচ হিসাব-নিকাশ শেষে দেখা যায়, তাঁদের বৈধ আয়ের চেয়ে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৪ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ অর্জিত হয়েছে, যার কোনো আইনি ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর মোস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। চার্জশিটে তাঁদের ১ কোটি ৮৩ লাখ ৫২ হাজার টাকারও বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ এবং ১৭ লাখ ৫৪০ টাকার তথ্য গোপনের প্রমাণ যুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহ থেকে যশোরের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া ও গ্রেফতার এড়াতে এতদিন আত্মগোপনে থাকলেও আজ বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আরজি জানান মোস্তাফিজুর রহমান। আদালত জামিন নাকচ করে তাকে যশোর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *