বঙ্গোপসাগরে বজ্রপাতে নিখোঁজ ট্রলার মাঝি রুবেলের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরে বজ্রপাতে নিখোঁজ ট্রলার মাঝি রুবেলের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর ট্রলার মাঝি রুবেল হাওলাদারের (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের চর গঙ্গামতি এলাকা থেকে তাঁর নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে নিহতের শোকার্ত স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করেন।

নিহত রুবেল রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ১২ নম্বর ডিগ্রির মাঝগ্রাম এলাকার আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিজেই একটি মাছ ধরা ট্রলারের মালিক এবং সেটির প্রধান মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় জেলে ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা এগারোটার দিকে রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা সমুদ্রবন্দরের তিন নম্বর বয়া সংলগ্ন গনির টেক নামক এলাকায় ট্রলার নিয়ে মাছ ধরছিলেন রুবেলসহ কয়েকজন জেলে। এ সময় হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে আকস্মিক তীব্র বজ্রপাত হলে রুবেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলার থেকে সরাসরি নদীতে ছিটকে পড়ে নিখোঁজ হন। এই ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় একই ট্রলারে থাকা আরও তিন জেলে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর নিকটবর্তী অন্যান্য মাছ ধরা ট্রলারের জেলেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তিন জেলেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও প্রমত্তা নদীর স্রোতে তলিয়ে যাওয়া রুবেলের কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি। এরপর থেকেই স্বজন ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। অবশেষে দুই দিন পর বুধবার দুপুরে চর গঙ্গামতি সৈকতে লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই নৌ-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ জেলের মরদেহটি উদ্ধার করে। ইতিমধ্যেই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু ডায়েরি করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে। ছবি পাঠিয়েছেন বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *