স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় বিগত ছয় বছরে আত্মহত্যাচেষ্টা ও এর ফলে মৃত্যুর একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে শুরু করে গত ছয় বছরে যশোরে ১৪ হাজার ৫১৬ জন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৩৪৪ জনের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘সনেট’-এ আয়োজিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত এক প্রকল্পের সমাপনী সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘এডিডি ইন্টারন্যাশনাল’ ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে যশোর জেলায় এই কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছিল, যা আগামী ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ ৬ বছরের অর্জন, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই এই সমাপনী সভার আয়োজন করা হয়।
যশোর জেলা প্রশাসনের এনজিও সমন্বয়কারী শাহজাহান নান্নুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। সভায় প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও অর্জনের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এডিডি ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল হারুন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মৌসুমী বিনতে মানিক উপরোক্ত পরিসংখ্যানটি উপস্থাপন করে বলেন, “যশোরে আত্মহত্যা প্রবণতার এই বর্তমান হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই নীরব মহামারি থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এবং আত্মহত্যা প্রবণতা কমিয়ে আনতে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সবারই আন্তরিক ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
সভায় বক্তারা আরও জানান, গত ৬ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় ‘স্কুল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্য ও উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা প্রকল্পের সফলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এডিডি ইন্টারন্যাশনালের এই প্রকল্প শেষ হলেও ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে যশোরে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ছবি সংগৃহীত।

