সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায় গোপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় টিয়াখালী ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান মরহুম মোবারক আলী হাওলাদারের ওয়ারিশরা।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকালে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে নেছারউদ্দিন টিপুর সভাপতিত্বে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নাওভাঙ্গা সালেহিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. আবু তালেব ইভান মাতুব্বর।

তিনি উল্লেখ করেন, রজপাড়া মৌজার ৩৪ দশমিক ৭৬ একর জমি নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে তাঁদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই চলছিল। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে মহামান্য হাইকোর্ট এবং সর্বশেষ আপিল বিভাগেও রায় মরহুম মোবারক আলী হাওলাদারের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে বহাল থাকে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর ভিত্তি করে তারা বর্তমানে ১৮ দশমিক ৯১ একর জমির সুনির্দিষ্ট মালিকানা লাভ করে তা ভোগদখল করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আদালতের চূড়ান্ত বিচারে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও খেপুপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আইনি রায় গোপন করেছেন। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নতুন মামলা করে প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর বিপরীতে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ইতোমধ্যে স্থিতাবস্থা এবং রুল জারি করা হয়েছে বলেও দাবি জানান তাঁরা।

এছাড়াও, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের প্রায় ৬৫ লাখ টাকা প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে উত্তোলন করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

উত্তরাধিকারীরা বিচার বিভাগীয় রায়ের সুফল পেতে এবং নিজ ভূমির সঠিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন। একইসাথে এ বিষয়ে সঠিক চিত্র ফুটিয়ে তুলতে গণমাধ্যমের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগসমূহের ব্যাপারে খেপুপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মতামত বা বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা উপস্থাপন করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *