অবশেষে কলাপাড়ার বিতর্কিত সাবেক ইউএনও আবু হাসনাতকে লঘুদণ্ড

অবশেষে কলাপাড়ার বিতর্কিত সাবেক ইউএনও আবু হাসনাতকে লঘুদণ্ড

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ৭২ একর সরকারি খাস জমি বেআইনি বন্দোবস্ত কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইন্ক্রিমেন্ট) স্থগিত রাখার ‘লঘুদণ্ড’ প্রদান করেছে সরকার। গত ২৩ জুলাই ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালে কলাপাড়ায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি একই সাথে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিপুল অঙ্কের অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭১ দশমিক ৬৩ একর (প্রায় ৭২ একর) সরকারি খাস জমি ৪২ জন প্রভাবশালী বিত্তবানের নামে বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে চারদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্ত ইউএনও নিজে বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন, যেখানে কলাপাড়া ভূমির সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে সার্ভেয়ার হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনের আওতাভুক্ত হওয়ায় তা পটুয়াখালী জেলা দুদক কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে দুদকের তদন্তের অগ্রগতি আর প্রকাশ পায়নি।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এই অনিয়মকে গুরুতর ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে ২০২৫ সালে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিত জবাব দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁর জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় একজন নিরপেক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় প্রেরিত তদন্ত কর্মকর্তা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান যে, অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত কবুলিয়ত তৈরি করা, জমির পরিমাণে বিশাল গরমিল এবং সরকারি নথিতে দৃশ্যমান কাটাছেঁড়া থাকা সত্ত্বেও ইউএনও কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্বাক্ষর করেন। দায়িত্ব পালনে এমন চরম অবহেলা ও অনিয়মের দায় প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী শহিদুল হককে ১ বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণের লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *