বাগেরহাট প্রতিনিধি:
খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। এর ফলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালে আগামীকাল রোববার সকাল থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস ও গণপরিবহন চলাচলে আর কোনো বাধা থাকল না।
আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং মাহেন্দ্র (থ্রি-হুইলার) মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ও দীর্ঘ বৈঠক শেষে এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
সভা শেষে বাগেরহাট আন্ত:জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকির শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, “আমাদের উত্থাপিত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামীকাল রোববার (১৪ জুন) সকাল থেকে পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। তবে আজকের জরুরি সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আগামী এক মাসের মধ্যে আমাদের তিন দফা দাবি পর্যায়ক্রমে ও সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আমরা আমাদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”
সভার সভাপতি ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মোহাম্মদ বাতেন আলোচনা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো ধাপে ধাপে পূরণের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি এবং তাঁরা জনস্বার্থে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করার সদয় ঘোষণা দিয়েছেন।”
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাজহারুল ইসলাম, বিআরটিএর পরিদর্শক মেহেদী হাসান, বাগেরহাট আন্ত:জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার লিয়াকত আলী এবং মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সভাপতি ইউনুস আলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে যে তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো হলো:
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করা, নীতিমালা অনুযায়ী জেলা বাস টার্মিনালে বিআরটিসির মাত্র একটি কাউন্টার চালু রাখা এবং পথে পথে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা। ২. আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। ৩. দূরপাল্লার (লং রুট) পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
শনিবার দুপুরে এই ধর্মঘটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ যাত্রী ও নিত্যযাত্রীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে রাতের এই সফল সমঝোতার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ছবি সংগৃহীত।

