স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
খুলনা মহানগরীর পুটিমারি বাজার এলাকায় একদল চিহ্নিত ও দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারীদের অতর্কিত হামলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয় লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এ সময় অস্ত্রধারীদের ছোঁড়া গুলিতে পুটিমারি বাজার সমিতির সভাপতি ও যুবদলকর্মী মো. মাসুম শেখসহ (৩০) অন্তত দুইজন গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) লবণচরা থানাধীন বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক গুলির ঘটনা ঘটে।
অস্ত্রধারীদের গুলিতে বিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— পুটিমারি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় যুবদলকর্মী মো. মাসুম শেখ (৩০) এবং তাঁর আপন শ্যালক জাহিদ হোসেন (২৫)। বর্তমানে তাঁদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে হঠাৎ একদল অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলযোগে পুটিমারি বাজার এলাকায় জলমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবদলকর্মী মাসুম শেখের সঙ্গে অস্ত্রধারীদের কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও তীব্র কথোপকথন শুরু হয়। আলোচনার একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে কোমরে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে মাসুমকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোঁড়ে।
এতে প্রথম রাউন্ড গুলিটি মাসুম শেখের কোমরের নিচে ডান পাশে বিদ্ধ হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর শ্যালক জাহিদ হোসেন তাঁকে বাঁচাতে ও সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে এগিয়ে এলে খুনিরা আরও এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। দ্বিতীয় রাউন্ডের এই গুলিটি জাহিদের ডান হাতের বাহুতে বিদ্ধ হয়ে আরপার হয়ে যায়। ঘটনার পর পরই বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় অস্ত্রধারী গ্যাংটি।
ঘটনার পরপরই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কেএমপির লবণচরা থানা পুলিশের একটি বড় টিম ও ডিবি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
গুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, “বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও গুলির খবর পাওয়া মাত্রই আমি নিজে ফোর্সসহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দুইজনকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, চিকিৎসকেরা তাঁদের শরীর থেকে গুলি বের করার চেষ্টা করছেন।”
ওসি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক রাজনৈতিক হামলার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী অস্ত্রধারীদের সনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অলরেডি চিরুনি অভিযানে নেমেছে। এই ঘটনায় লবণচরা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ফাইল ছবি।


