পাগলাদাহে যুবককে বাঁচাতে গিয়ে মা-বোনও রক্তাক্ত

পাগলাদাহে যুবককে বাঁচাতে গিয়ে মা-বোনও রক্তাক্ত

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের সদর উপজেলার পাগলাদাহ পূর্বপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবক ও তাঁর পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা, মারধর, নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই এবং এক নারীর শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাগলাদাহ গ্রামের মোজাহারের ছেলে শহীদ (৩৫) এবং মৃত আফজালের ছেলে আসাদ (৩৮)।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি  মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিরা হলেন— একই গ্রামের আজাদ, মাহাবুর, আফদার, ইনামুল ও শাহাদৎ।

কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে (২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম পাগলাদাহ পূর্বপাড়া এলাকার জাহিদুলের চায়ের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে অভিযুক্ত শহীদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শরিফুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।

চিৎকার শুনে শরিফুলকে বাঁচাতে তাঁর মা সাহিদা বেগম ও বোন রিনা খাতুন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। হামলার একপর্যায়ে আসামিরা শরিফুলের পকেটে থাকা ব্যবসা সংক্রান্ত নগদ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। একই সাথে শরিফুলের বোনকে  শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর পরই স্থানীয় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম গত ১ জুন কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানায়, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে কোতোয়ালি থানার একটি আভিযানিক দল পাগলাদাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান দুই অভিযুক্ত শহীদ ও আসাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে যশোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *