ছোট ছেলের তৎপরতায় উদ্ধার মায়ের লাশ: বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ছোট ছেলের তৎপরতায় উদ্ধার মায়ের লাশ: বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর নিজের শয়নকক্ষের পাকা মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধা মায়ের পুঁতে রাখা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দান পাড়া এলাকায় ওই বৃদ্ধার নিজ বসতঘর থেকে এই চাঞ্চল্যকর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে আটক করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের বড় ছেলে এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন জুয়েল মিয়া সম্পূর্ণ আত্মগোপন ও পলাতক রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বৃদ্ধা মারুফা বেগমের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া পেশাগত কারণে ঢাকায় চাকরি করেন এবং বাড়িতে মারুফা বেগম তাঁর বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার সাথেই বসবাস করতেন। গত সোমবার হঠাৎ করেই পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানানো হয় যে মারুফা বেগম নিখোঁজ হয়েছেন। মায়ের নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকা থেকে দ্রুত গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন এবং চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মায়ের কোনো সন্ধান পাননি। গতকাল বুধবার লাভিন মিয়ার স্ত্রী নিজেদের শয়নকক্ষের বিছানা গোছাতে গিয়ে হঠাৎ বিছানার তোশকের নিচে জমাটবদ্ধ রক্ত এবং ঘরের পাকা মেঝেতে রহস্যজনক নতুন ফাটল দেখতে পেয়ে স্বামীকে জানান। পরবর্তীতে লাভিন মিয়া দ্রুত কিশোরগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘরের ভেতরে বিছানার তোশকের নিচে তাজা রক্ত ও ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখে নিশ্চিত হয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের মেঝে খনন শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে মারুফা বেগমের মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এই লোমহর্ষক ঘটনার পর নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়ার সরাসরি অভিযোগ, তাঁর বড় ভাই জুয়েল মিয়া নিজেই মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রেখেছে। লাভিন মিয়া জানান, তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর জানতে পারেন যে মা নিখোঁজ হওয়ার দিন তাঁর মায়ের সঙ্গে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর তীব্র ঝগড়া হয়েছিল এবং সেই অভিমানে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ওই দিনই রাগ করে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যান। আর ঠিক সেই দিন থেকেই তাঁর মা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন এবং বড় ভাই জুয়েলও পলাতক রয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের ছোট ছেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে ঘরের মেঝে খুঁড়ে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত মারুফা বেগম দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন উল্লেখ করে ওসি আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে এবং তদন্ত শেষে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে কে বা কারা জড়িত তা দ্রুতই জানা যাবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *