স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক গা শিউরে ওঠা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার একটি ঘন জঙ্গল থেকে দুই হাত গাছে বাঁধা অবস্থায় কাউসার আলম (৪৪) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। নির্মমতার চরম রূপ হিসেবে মরদেহের শরীরটি গাছে বাঁধা থাকলেও তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি পাশেই মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত কাউসার আলম মূলত দিনাজপুর জেলার দরিরামপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরের দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন মশাখালি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দরিচার চর গ্রাম থেকে এই বীভৎস মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে মশাখালি ইউনিয়নের দরিচার চর গ্রামের একটি নির্জন জঙ্গলের পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াতের সময় গাছে বাঁধা অবস্থায় একটি ধড় দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা আবিষ্কার করেন যে, হাতবাঁধা শরীরের মাথাটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশে ছিটকে পড়ে আছে। এমন নৃশংস দৃশ্য দেখে এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান। পরবর্তীতে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে থানায় জরুরি খবর দেওয়া হলে পাগলা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ নিহত ব্যক্তিকে চিলতে বা শনাক্ত করতে না পারায় লাশের পরিচয় নিয়ে এক চরম জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একটি বিশেষ কারিগরি দলকে খবর দেওয়া হয়। পিবিআই-এর ক্রাইম সিন টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ প্রযুক্তির সহায়তায় জাতীয় ডেটাবেজ থেকে নিহতের আসল নাম ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই রোমহর্ষক ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের স্থায়ী নিবাস দিনাজপুর জেলায় হলেও সে কী উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহে এসেছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে অপরাধীদের সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করতে জেলা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা শাখা নিরলসভাবে কাজ করছে। পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের বিশেষ টিম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে খুব দ্রুতই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচনসহ ঘাতকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

