কেশবপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পিটালেন জামায়াত নেতা !
??????????????

কেশবপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে পিটালেন জামায়াত নেতা !

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া ধর্মপুর দারুস্ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে অধ্যক্ষকে (প্রিন্সিপাল) মারধর করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন এক টেলিভিশন সাংবাদিক এবং তাঁর পেশাগত ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার চিংড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিংড়া ধর্মপুর দারুস্ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন, জমি ছেড়ে দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ ও অতীত কিছু প্রশাসনিক বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় জামায়াত নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজ উদ্দীন এবং হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল উগ্র লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। তারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের কক্ষে ঢুকে তাঁর সাথে চরম বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ ও কঠোর তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তবে মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জামায়াত নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজ উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ গোপনে পকেট কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছে, সেই বিষয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের কাছে বিনম্রভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল মাত্র।”

অন্যদিকে, চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শামীম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

এদিকে, চিংড়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ কমিটি গঠন ও দুর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে সেখানে যান এনটিভির কেশবপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক এনামুল হাসান। সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ পক্ষ গণমাধ্যমকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একদল ক্যাডার সাংবাদিক এনামুল হাসানের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। তারা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে এবং তাঁর হাত থেকে মূল্যবান ভিডিও ক্যামেরাটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সৎ ও নির্ভীক সংবাদকর্মীর ওপর এমন বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলায় কর্মরত সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রেজাউল মোড়ল ও ইকবাল হোসেনসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *