স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ঘোষপাড়া কালী মন্দিরের জমি নিয়ে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়ারিশ ফাঁকি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে মন্দিরের জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগে উদ্ভূত আইনি জটিলতায় বর্তমানে মন্দিরটির চলমান উন্নয়নকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় মন্দির কমিটি।
মন্দির কমিটির লিখিত ও মৌখিক দাবি অনুযায়ী, উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার ৪২২ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্গত ৪৫০৮ দাগের ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। কমিটির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ— ওই এলাকার বাসিন্দা অশোক কুমার ঘোষ প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চনা করে এবং একটি ভুয়া ও জালিয়াতিপূর্ণ দলিলের আশ্রয় নিয়ে উক্ত জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
পরবর্তীতে ওই জমিতে মন্দিরের সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) নির্মাণের কাজ শুরু হলে অশোক কুমার ঘোষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের এই মামলার প্রেক্ষিতে আইনি বাধ্যবাধকতায় মন্দিরের চলমান সকল উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।
সাতবাড়িয়া ঘোষপাড়া কালী মন্দির কমিটির ভাষ্যমতে, জমিটি নিয়ে এর আগেও বিরোধ দেখা দিলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গত ১৩ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে জমিটি নিখুঁতভাবে পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই পরিমাপ ও সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অমান্য করে অশোক কুমার ঘোষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন। এর ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার ও মন্দিরের সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, ভুয়া দলিলের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মন্দিরের উন্নয়নকাজের জটিলতা দ্রুত নিরসন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ পুনরায় চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। ছবি সংগৃহীত।


