স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিনে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মাদ আমানুল্লাহ্ আজ এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃতরা হলেন— কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দা রানী (৫৫), একই ইউনিয়নের ফুলু মিয়া এবং সর্বশেষ গত ৮ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজমিস্ত্রি রত্নেশ্বর কুমার।
নিহত রত্নেশ্বর কুমারের পরিবার জানায়, কুকুরে কামড়ানোর পর দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে ‘র্যাবিস’ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। পরে জেলা সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর চড়া মূল্যে একটি টিকা জোগাড় করা সম্ভব হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে টিকা না পেয়ে মানুষ নিরুপায় হয়ে ফিরে আসছে।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একটি পাগলা কুকুর হামলা চালিয়ে দুই শিশু ও নারীসহ অন্তত ১৩ জনকে আহত করে। বর্তমানে আফরোজা বেগম নামের একজন গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এছাড়া আরও ৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে লড়ছেন। এলাকায় বর্তমানে চরম কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান জানান, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীর কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান ক্ষারীয় সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। সময়মতো টিকা নিলে জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
ইন্টারনেট থেকে ছবিটি সংগৃহীত।


