উপশহরের লিটু, মনসুর ও চিমাসহ ৩৯ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা

উপশহরের লিটু, মনসুর ও চিমাসহ ৩৯ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের শহরতলী বসুন্দিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর, উসকানিমূলক গোপন বৈঠক ও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৩৯ জন হেভিওয়েট নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সুনির্দিষ্ট আসামিদের পাশাপাশি আরও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় এই মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

থানা পুলিশ ও এজাহারের কপি সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৯) কোতোয়ালি থানার বসুন্দিয়া (সদুল্যাপুর) গ্রামের মৃত মোদাচ্ছেরের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভাসানটেক থানা মিরপুর-১৪ ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার লিখিত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে কোতোয়ালি উপজেলার জঙ্গলবাঁধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে একটি গোপন ও বেআইনি বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে তারা বর্তমান সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটানো, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ক্ষতিসাধন এবং সাধারণ জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতার নীলনকশা প্রণয়ন করেন বলে জোরালো অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদীর দাবি, ওই গোপন বৈঠকে উপস্থিত আসামিরা হঠাৎ “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা” স্লোগান দিয়ে উগ্র রূপ ধারণ করেন এবং লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয় বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় প্রধান কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা কার্যালয়ের প্রধান দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অফিসের সমস্ত আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ ও নষ্ট করে দেয়। এছাড়া অফিসের দেয়ালে থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছবি, পোস্টার ও ব্যানার ভাঙচুর করে পা দিয়ে মাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী একজোট হয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ঘটনার সাক্ষী হিসেবে রিয়াজুল হক মিল্টন, মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ আশিকসহ ৫ জনের নাম এজাহারে যুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় যে ৩৯ জন নেতার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন— নাজিম উদ্দিন, আজাদ কানু, এহসানুল হক লিটু, হাজী সুমন, আনোয়ার হোসেন বিপুল, মনসুর, চিমা, রাজু, আব্দুস সালাম, জাভেদ, রবিউল ইসলাম, বাবু, দাঁতাল বাবু, কামরুজ্জামান, আমিরুল, ইব্রাহিম শেখ, মাসুদ হোসেন, জিতু মোল্লা, মোহাম্মদ আলী, জিন্তুর রহমান মোল্লা, রাকিব, সিজন, ইসলাম বিশ্বাস, ইউসুফ, টুটুল, ইশা, মাহমুদুল হাসান লাইফ, আনিছুর রহমান, আব্দুল কাদের, ডাবলু, মুরাদ হোসেন, আফসার বিশ্বাস, রবি, জামির, শরিফুল, রাজিবুল রাজিব ও আলমগীর কবির পিন্টু।

কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নাশকতার মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে কাজ শুরু করেছে। তবে মামলার আইনি ধারা অনুযায়ী, উত্থাপিত অভিযোগসমূহ বর্তমানে সম্পূর্ণ তদন্তাধীন এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। এই মামলার জেরে যশোর ও বসুন্দিয়া রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *