ভিজিএফের চাল বিতরণে হরিলুট : ১০কেজির স্থলে মিলল ৬ কেজি

ভিজিএফের চাল বিতরণে হরিলুট : ১০কেজির স্থলে মিলল ৬ কেজি

জাকির হোসাইন (তুষার) মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজাহা উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ(VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নে। দুস্থ, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে না পৌঁছে সচ্ছল পরিবারকে দেওয়া হয়েছে, বলে অভিযোগ অসহায়দের। এবং ১০ কেজির পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে ৬-৭ কেজি চাল।

শনিবার (২৩ মে) সরেজমিনে বালিদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি চাল পাওয়ার পর অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে পাশের দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছেন। চাল বিতরণের জায়গায় চাল ক্রয়ের জন্য আগে থেকেই ক্রেতা বসে থাকতে দেখা যায়। এসময় কয়েকজনকে চাল বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, “মোটা চাল, খাওয়া যায় না।” অথচ গরিব অসহায় ব্যক্তিরা বলছেন এই চাল আমাদের জন্য মহামূল্যবান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের প্রকৃত অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র অনেক পরিবার এবার ভিজিএফের কার্ড পাননি। অন্যদিকে স্বজনপ্রীতি ও ভোটের আশায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এমন অনেক পরিবার কে দেওয়া হয়েছে এই চাল। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা ঈদের আগ মুহূর্তে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের কে পেয়ে অনেক অসহায় নারী-পুরুষ কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, তাদের ঘরে খাবার নেই, চাল কেনার সামর্থ্যও নেই, অথচ তারা কোনো কার্ড পাননি। এসময় কয়েকজন বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

বেশ কয়েকজন উপকারভোগীকে কার্ড হাতে নিয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়, তাদের অভিযোগ, কার্ড পেলেও এখনো চাল বুঝে পাননি। আবার যারা চাল পেয়েছেন, তাদের অনেকেই অভিযোগ করেন, ১০ কেজির স্থলে তাদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৭ কেজি চাল।

সরেজমিন অনুসন্ধানে চাল কম দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। কয়েকজন উপকারভোগী তাদের প্রাপ্ত চাল মেপে দেখিয়ে বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কম দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে একটি অসাধু চক্র। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট মেম্বারের বক্তব্য মুঠোফোনে জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *