৭ম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাবা-ছেলের পালাক্রমে ধর্ষণ !

৭ম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাবা-ছেলের পালাক্রমে ধর্ষণ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় আধুনিক সমাজের বুকে এক চরম চুনকালি লেপে দিয়ে এবং পবিত্র পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সমস্ত অবক্ষয় ঘটিয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক অসহায় মাদ্রাসাছাত্রীকে বাবা ও ছেলে মিলে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একাধিকবার বর্বরোচিত ও পাশবিক ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। লম্পট বাবা-ছেলের এই পৈশাচিক লালসা ও দীর্ঘদিনের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সী ওই অবুঝ কিশোরীটি বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মাতব্বররা আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ধর্ষণের এই জঘন্যতম ফৌজদারি অপরাধটিকে লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে পড়িয়ে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। তবে অপরাধীদের ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এরই সুনির্দিষ্ট আভিযানিক ধারাবাহিকতায় বড়াইগ্রাম মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস ও সশস্ত্র দল মালিপাড়া গোয়ালপাড়া এলাকায় ঝটিকা ব্লক রেইড দিয়ে ঘটনার মূল হোতা ও কুখ্যাত বাবা সামসুল ইসলাম (৫০) এবং তার কামোন্মাদ পুত্র আরিফুল ইসলাম (২২)-কে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ধৃত দুই খলনায়ককে নাটোরের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার হওয়া এই অবুঝ শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী। মালিপাড়া গোয়ালপাড়া এলাকায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির ঠিক পাশেই প্রধান অভিযুক্ত সামসুল ইসলামের একটি সুপরিচিত চায়ের দোকান রয়েছে। বৃদ্ধ সামসুল ও তার উগ্র মেজাজী পুত্র আরিফুল ইসলাম দুজনে মিলেই মূলত ওই চায়ের দোকানটি পরিচালনা করত। মেয়েটির সরলতা এবং অভিভাবকের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি এক কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে প্রথম ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে লম্পট পুত্র আরিফুল। পরবর্তীতে তার বাবা সামসুল ইসলামও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিষয়টি বাড়ির কাউকে বা প্রতিবেশীদের জানালে তাকে ও তার পরিবারকে কুপিয়ে হত্যার তীব্র হুমকি দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ওই অবুঝ কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। লম্পট বাবা-ছেলের এই ধারাবাহিক ও সংঘবদ্ধ পাশবিকতার একপর্যায়ে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে ডাক্তারী পরীক্ষায় সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণিত হয়।

 গ্রামবাসীরা জানান, গত বুধবার রাতে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু কুচক্রী গ্রামপ্রধান ও মাতব্বররা ভুক্তভোগীর বাড়িতে এক বেআইনি ও বিতর্কিত গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে। সেখানে আইনের তোয়াক্কা না করে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ও কাবিন ধার্য করে গর্ভবতী ওই নাবালিকা ছাত্রীর সাথে প্রধান ধর্ষক আরিফুলের জোরপূর্বক বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে সালিশি বাণিজ্যের অংশ হিসেবে মেয়ের নামে ৪ শতাংশ বসতবাড়ি লিখে দেওয়া এবং অপরাধী বাবা সামসুল ইসলামকে অনতিবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আলটিমেটাম দেয় গ্রামপ্রধানরা। কিন্তু এই বেআইনি বিয়ে ও প্রহসন মেনে না নিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর সাহসী ভাই দেশে ফিরে সরাসরি বড়াইগ্রাম থানায় হাজির হন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কঠোর ধারা লঙ্ঘন করায় লম্পট বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

বড়াইগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম নিশ্চিত করেছেন যে, মামলা দায়েরের পর পরই ডিবির সাইবার উইংয়ের তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় আভিযানিক দল নিয়ে গোয়ালপাড়া গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত সামসুল ও আরিফুলকে গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সাথে এই জঘন্য অপরাধের আলামত গোপন করার চেষ্টা এবং বেআইনি সালিশি বাণিজ্যের সাথে জড়িত অন্য কোনো ইন্ধনদাতা মাতব্বর বা কুচক্রী মহল রয়েছে কিনা তাও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  সংগৃহীত প্রতীকী ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *