রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনে কর্তব্যরত সহকারী স্টেশন মাস্টার জনাব মনিদেব দাসের উপর চিহ্নিত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়ন। আজ শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভা থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হলে দেশব্যাপী একযোগে রেলপথ অবরোধ ও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব মির্জা কামরুল হক এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাদাত।
রেলওয়ে সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার সময় কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনে ডিউটিরত অবস্থায় সহকারী স্টেশন মাস্টার মনিদেব দাসের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এলাকার চিহ্নিত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ও আলামিন এই হামলার নেতৃত্ব দেয়। তারা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মনিদেব দাসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও মারাত্মক জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হামলাকারী তানভীর ও আলামিন কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন ও তৎসংলগ্ন এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতা। এদের নেপথ্যে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির হাত থাকায় এরা দিন দিন চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রেলস্টেশন কেন্দ্রিক অবৈধ চোরাচালান, টিকিট কালোবাজারি, ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়সহ নানাবিধ অপকর্মের সাথে এই সন্ত্রাসী চক্রটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দুই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর ভয়ে কোটচাঁদপুর স্টেশন ও আশপাশের সাধারণ মানুষ সর্বদা চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করেন। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নেমে আসে পৈশাচিক নির্যাতন।
প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মির্জা কামরুল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনকালে একজন স্টেশন মাস্টারের ওপর এমন নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তানভীর ও আলামিনের মতো সমাজবিরোধী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।” সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাদাত বলেন, “আমরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে যদি রেলওয়ের ওপর হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে সারা দেশের রেল চাকা অচল করে দেওয়া হবে। রেলপথ অবরোধ ও কর্মবিরতির মতন কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”
এ সময় মানববন্ধনে কোটচাঁদপুর ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্তরের রেলওয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারী, বুকিং সহকারীসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ অংশ নিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান। কোটচাঁদপুর রেলওয়ে থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে, তবে তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছবি সংগৃহীত।

