শিশু রামিসা হত্যায় ঘাতক দম্পতির ফাঁসির আদেশ

শিশু রামিসা হত্যায় ঘাতক দম্পতির ফাঁসির আদেশ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন ২০২৬) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। দেশের বিচারিক ইতিহাসে মাত্র ১৭ দিনে কোনো হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানান, সংগৃহীত ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত এবং রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে এই জঘন্য অপরাধে সোহেল রানাকে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অপরাধে সহযোগিতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার কৌশলে রামিসাকে তাদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সোহেল রানা শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করে। নিখোঁজ হওয়ার পর রামিসার মা অভিযুক্তদের ঘরের সামনে মেয়ের জুতো দেখে সন্দেহ করেন এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে এই ঘাতক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। ২০ মে মামলা দায়েরের পর পুলিশ মাত্র ৫ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর ১ জুন অভিযোগ গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, এই রায় দ্রুততম সময়ে কার্যকর হলে তা শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজে এক কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার সময় দম্পতিকে বিমর্ষ অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এই রায়ের মাধ্যমে রামিসার পরিবার দীর্ঘ প্রতিক্ষীত ন্যায়বিচার পেলেও, এমন একটি নিরাপদ সমাজ গঠনের দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, যেখানে আর কোনো শিশুকে এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হবে না। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *