বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবীণ ব্যক্তি হারিচ আহমেদ মজিবুরকে বর্বরভাবে পিটিয়ে ও মাটিতে পুঁতে হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস মিয়ার ছেলে মো. ছারোয়ার (৩৫) এবং একই গ্রামের মৃত মোজাহারের ছেলে মো. সালেক (৪০)।
আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোরে পটুয়াখালী র্যাব-৮ এবং নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জুলকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকা থেকে আসামি মো. সালেককে এবং পূর্বাচল ক্যাম্পের সহায়তায় ঢাকা জেলার গুলশান থানাধীন আজাদ মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে অপর আসামি মো. ছারোয়ারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এলিট ফোর্সটি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই বিতর্কিত জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদে বাধা দেওয়ায় খলিল মিয়া, ছলেমান, রবিউল ইসলাম, মিজানুর ও ফেরদৌসের নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী বৃদ্ধ হারিচ আহমেদের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে এবং জীবন্ত অবস্থায় মাটিতে পুঁতে রাখে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে স্বজনরা এগিয়ে এলে বাড়ির নারী সদস্যদেরও গাছে বেঁধে মারধর করা হয়।
ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় চৌকিদার ও এলাকাবাসী এসে মুমূর্ষু অবস্থায় হারিচ আহমেদসহ অন্যদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে আমতলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে খলিল মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে গত ২১ জুলাই মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার খবর নিশ্চিত করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার জানান, র্যাব-৮-এর হাতে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির মধ্যে একজনকে ঢাকা থেকে এনে ইতিমধ্যেই কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামীকেও থানায় নিয়ে এসে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ছবি সংগৃহীত।

