যশোর শিশু হাসপাতালে ফ্যাসিস্ট আমলের দোসরদের দৌরাত্ম্য!

যশোর শিশু হাসপাতালে ফ্যাসিস্ট আমলের দোসরদের দৌরাত্ম্য!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় শিশুদের স্বল্পমূল্যে সুচিকিৎসা প্রদানের মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘যশোর শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন’ ও হাসপাতাল। কিন্তু বর্তমানে সেই মহান উদ্দেশ্য পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত। সেবার নামে উপশহরের এই শিশু হাসপাতালে চলছে নীরব লুটপাট, চরম অব্যবস্থাপনা, কুট-রাজনীতি ও স্বজনপ্রীতির মহোৎসব।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও, হাসপাতালের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো টিকে আছে ফ্যাসিস্ট আমলের দোসরদের প্রভাব ও দুর্নীতি। রোগীদের জিম্মি করে ফার্মেসির একচেটিয়া দখল, চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের ফার্মেসিটিতে একচেটিয়া রাজত্ব করছেন অনুপ নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের প্রত্যক্ষ মদদে স্থানীয়দের আপত্তি উপেক্ষা করে অনুপকে এই ফার্মেসিতে বসানো হয়। এরপর থেকে শুরু হয় অনুপের উত্থান। হাসপাতালের প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, অনুপের পিতা ভজন ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি চরমপন্থী গ্রুপের নেতা। অন্য একটি গ্রুপের হাতে তিনি নিহত হওয়ার পর থেকে ভজনের ভাই লব এবং ছেলে অনুপ শাহীন চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। লবের বিরুদ্ধে লেবুতলা ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও কোতোয়ালী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তৎকালীন শিশু হাসপাতালের ঢাকার এক কর্মকর্তা ও হাসপাতালের স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তা এক চিকিৎসকের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় বিনা দরপত্রে গোপনে অনুপকে এই ফার্মেসির লিজ দেওয়া হয়। যা বছরের পর বছর রিনিউ অটো হয়ে যাচ্ছে কোন টেন্ডার ছাড়াই।

হাসপাতালে ওষুধ কিনতে আসা রোগীদের স্বজনদের সাথে অনুপের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, অনুপ চিকিৎসকদের সাথেও বাজে আচরণ করেন। চিকিৎসকের লেখা ওষুধ তাঁর ফার্মেসিতে না থাকলে তিনি সেটি পরিবর্তন করতে চাপ দেন এবং ওষুধ কোম্পানির স্যাম্পল তাকে না দিলে চিকিৎসকদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

সূত্র আরও দাবি করে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনুপ এখন ‘বড় বাজারের চশমা ব্যবসায়ী সবুজ’ নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার চেষ্টা করছেন। অথচ, বিগত আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ভাঙচুরের দিন অনুপ তাঁর ফেসবুকে খালেদা জিয়ার কান্নারত ছবি দিয়ে ‘হায়রে ঘর আমার ঘর’ লিখে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছিলেন।সেই পোস্ট এ প্রতিবেদকের কাছে সংগৃহীত রয়েছে। একজন ফেসবুক বা আইটি বিশেষজ্ঞ দিয়ে তার ফেসবুক যাচাই করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এই পুরো চক্রের নেপথ্যে হাসপাতালের স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তা এক চিকিৎসকের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে। তিনি নিজেকে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা’ দাবি করলেও, তাঁর চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী আমলে দলীয় সুপারিশে অনেককে তিনি হাসপাতালে নিয়োগ দিয়েছেন এবং নিজের আত্মীয়স্বজন ও ভাগ্নিকেও চাকরি দিয়ে রেখেছেন। তাঁর নিজস্ব লোকজন দিয়ে পুরো হাসপাতাল নিয়ন্ত্রিত। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সুকৌশলে তাকে কোণঠাসা করা হয়। এমনকি অনুপের ফার্মেসির পাশাপাশি হাসপাতালের ঐ শীর্ষ কর্মকর্তা নিজের বাড়ির ফার্মেসিও অনুপকে লিজ দিয়েছেন, যা অনুপের কর্মচারী পরিচালনা করেন এবং চিকিৎসকদের স্যাম্পল ওষুধ সেখানে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।

রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনুপ বলেন, “ওষুধের মূল্য নিয়ে মাঝেমধ্যে রোগীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় ঠিকই, কিন্তু কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয় না।”

অন্যদিকে, হাসপাতালের ঐ শীর্ষ কর্মকর্তা কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ফার্মেসির বিষয়ে তিনি জানান, “আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত অনুপের ফার্মেসির মেয়াদ রয়েছে।” এ সময় তিনি নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা দাবি করে একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। তবে ‘ফ্যাসিস্ট দোসরদের কেন আশেপাশে রেখেছেন’—এমন প্রশ্নের তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্লেখ্য, ওই শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে অনুপের বিরুদ্ধে ওটা কোন অভিযোগ করলে কাজ হয় না। বরং তিনি সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

যশোর শিশু হাসপাতালে কেন ভালো ও উচ্চ ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা টিকতে পারেন না, গরিবের পকেট কেটে কীভাবে সেবার নামে লুটপাট চলছে—এ বিষয়ে জানতে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের বর্তমান মহাসচিব প্রকৌশলী রেজা করিমের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়গুলো সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অভিযোগগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখব। হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।”

খালেদা জিয়াকে নিয়ে অনুপের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট সহ যশোর শিশু হাসপাতালের এমন আরও অজানা দুর্নীতি, কুট-রাজনীতি ও অব্যবস্থাপনার আাগামীর সচিত্র প্রতিবেদন দেখতে আমাদের সাথে থাকুন। ছবি-অনুপের ফেসবুক থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেয়া।

আরো পড়ুন

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সচেতনতাই রুখবে সামাজিক অপরাধ : যশোরে কোতোয়ালি ওসির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

গাঁজা ও প্রসাধন সামগ্রীসহ চোরাচালানি পণ্য আটক

চাচাতো ভাইয়ের কাঁচির আঘাতে যুবক আহত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

উপশহর বাদশাহ ফয়সল ইনস্টিটিউটে বিটিএইচ-এর 'পিয়ার লিডার' ক্যাম্পেইন

১০ জেলায় ২৫২৩ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ঝিনাইদহে নকলের দায়ে ২জন বহিষ্কৃত

তালাকের ক্ষোভে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ সাবেক স্ত্রীকে!

রঙ-বেরঙের ফুলে সেজেছে যশোর কারাপ্রাঙ্গণ

হাসিমপুর প্রাইমারি স্কুলে রোটারি ক্লাব অব যশোরের বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ চারা বিতরণ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *