রোজ লেনদেন ২কোটি, টাকা যেত বিদেশে !

রোজ লেনদেন ২কোটি, টাকা যেত বিদেশে !

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) দুই দফায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), বাজিতপুরের সজীব চক্রবর্তী (২৯), কিশোরগঞ্জ সদরের মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০) ও কটিয়াদির আব্দুর রহমান (৪৭)। এছাড়াও ময়মনসিংহের ফুলপুরের মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার তৈয়ব খান (২৬) ও সৌমিক সাহা (২৮) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার মো. কামরুজ্জামান (৩৬)।

সিআইডি’র সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত নজরদারির সময় দেখতে পায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জুয়ার সাইট বাংলাদেশে পরিচালনা করছে। যেখানে বিকাশ, রকেট, নগদ, ক্রিপ্টো ওয়ালেট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দৈনিক কোটি কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ডিএমপির পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৪১) দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ মে প্রথম দফায় ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে চক্রের প্রথম ৪ সদস্য (আশরাফ, সজীব, আশরাফুল ও জসীম) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ মে নরসিংদীর পলাশ এবং ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে বাকি ৪ জন (তৈয়ব, সৌমিক, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সিআইডি।

সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডিজিটাল হুন্ডি ও অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে ফেলে গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছিল। পরবর্তীতে এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

দুই দফা অভিযানে সিআইডি বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন, ২০টি সচল সিম কার্ড (যার মধ্যে ২টি এজাহারভুক্ত বিকাশ এজেন্ট সিম ও ১৮টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম)। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের রশিদও জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে তাদের সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। চলতি মে (২০২৬) মাসের ১ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে সিআইডি—

  • জুয়ার সাথে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে ডাউন করার জন্য বিটিআরসিতে পাঠিয়েছে।

  • অবৈধ লেনদেনে ব্যবহৃত ৮৭৯টি মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা স্থগিত করার জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠিয়েছে।

এই অপরাধ চক্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত বাকি অজ্ঞাত সদস্যদের শনাক্ত করতে সিআইডির জোরালো তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *