বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ‘মালচিং পেপার’ (Mulching Paper) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফসল চাষে উপকূলীয় কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং এর বাস্তব ফলাফল চাষিদের সামনে তুলে ধরতে এক বিশেষ ফসল প্রদর্শনী ও প্রতিরূপায়ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেলে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামে হীড বাংলাদেশ পাখিমারা শাখার বিশেষ উদ্যোগে এই মাঠ দিবস ও সভার আয়োজন করা হয়।
অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন’ (PKSF)-এর বিশেষ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হীড বাংলাদেশ’ (HEED Bangladesh)-এর ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট’ (এগ্রিকালচার) প্রকল্পের আওতায় এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হীড বাংলাদেশ পাখিমারা শাখার শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম।
অতিথিবৃন্দ ও সুধী সমাবেশ: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI)-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল বাক্কী। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন এবং হীড বাংলাদেশের স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্টের কৃষি কর্মকর্তা সোহেল সিকদার।
এছাড়াও মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া কলাপাড়ার স্থানীয় সফল চাষি হাফিজুর রহমান, নিজাম মল্লিক, আবু সালেহ শিকদার এবং রশিদ সিকদার প্রমুখ মাঠ দিবসের এই সভায় নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প শোনান। অনুষ্ঠানে ওই অঞ্চলের প্রায় ৯০ জন কিষাণ-কিষাণীর পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কৃষি অনুরাগী যুবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং কৃষি বিজ্ঞানীরা মালচিং পেপার প্রযুক্তির বৈজ্ঞানিক ও উপকারী দিকগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। হীড বাংলাদেশের কৃষি কর্মকর্তা সোহেল সিকদার বলেন, “মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষাবাদ করায় উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য আমূল পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এই প্লাস্টিক বা কাগজের বিশেষ স্তর ব্যবহারের ফলে জমিতে সার ও সেচের পানির অপচয় হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, ক্ষেতে কোনো আগাছা জন্মাতে পারে না, ফলে নিড়ানি ও লেবার খরচ বেঁচে যায় প্রায় ৭০ শতাংশ। উৎপাদন খরচ কমায় এবং ফলন আশাতীত ভালো হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকেরা আর্থিকভাবে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন।”
হীড বাংলাদেশ পাখিমারা শাখার শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “উপকূলের লবণাক্ত ও বৈরী আবহাওয়ার মাটিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ফসল চাষে এ বছর কৃষকেরা যে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন, তা সত্যিই যুগান্তকারী। গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার করতে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে আমরা এই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কলাপাড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।” প্রধান অতিথি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাক্কী উপস্থিত কৃষকদের প্রদর্শনী প্লটগুলো ঘুরে দেখেন এবং মালচিং প্রযুক্তির আধুনিক চাষাবাদ আরও বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত সহায়তার আশ্বাস দেন। ছবি পাঠিয়েছেন বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।


