১২ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ভাগ্নে ইমন’ অবশেষে গ্রেফতার

১২ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ভাগ্নে ইমন’ অবশেষে গ্রেফতার

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের অপরাধ জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং এক ডজন মামলার পলাতক আসামি ইমন ওরফে ‘ভাগ্নে ইমন’ (২৮)-কে অবশেষে লোহার খাঁচায় পুরেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) গভীর রাতে শহরের স্পর্শকাতর চাঁচড়া রেলগেট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন শহরের রায়পাড়া এলাকার কুখ্যাত অপরাধী খালিদ কাজীর ছেলে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে তাকে কড়া পুলিশি পাহারায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় যশোর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (ইনভেস্টিগেশন) মমিনুল হক ঘটনার নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করে জানান, গত ২৮ এপ্রিল (২০২৬) সন্ধ্যার পর যশোর শহরের পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আজিজ সিটি এলাকায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার লক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আইন অমান্য করে মোমবাতি ও হেরিকেন নিয়ে একটি অতর্কিত বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

ওই উসকানিমূলক মিছিল থেকে তারা দেশবিরোধী, উগ্র এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকে, যার ফলে পুরো বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় চরম আতঙ্ক ও জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে সাইবার ইউনিট ও ডিবির গভীর তদন্তে এই নাশকতামূলক মিছিলের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ জোগানদাতা হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ভাগ্নে ইমনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ উঠে আসে।

কোতোয়ালি থানার ক্রাইম রেকর্ড বুক  সূত্রে জানা গেছে, ভাগ্নে ইমন শুধু এই রাজনৈতিক নাশকতাই নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহর ও এর আশপাশ এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং সন্ত্রাসী হামলার রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানা ও বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মোট ১২টি নিয়মিত মামলা চলমান রয়েছে। অধিকাংশ মামলায় সে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে ওপার বাংলায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “ভাগ্নে ইমনের মতো একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার হওয়ায় যশোর শহরের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে যারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইমনের সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের ধরতেও আমাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *