বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ‘দি সাপ্লাই অ্যা ন্ড সেল সোসাইটি’র চেয়ারম্যান বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলুর বাসভবনে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) রাতের আঁধারে বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাটি ঘটায়। শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি সুরক্ষিত ও পরিচিত রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু শারীরিক অসুস্থতার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে সপরিবারে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর পুরো পরিবার ঢাকায় থাকার কারণে শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসভবনটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল।
গত শুক্রবার রাতে উপকূলীয় এলাকায় তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছিল। এই সুযোগটিকেই অত্যন্ত সুকৌশলে কাজে লাগায় স্থানীয় চোর চক্র। রাতের আঁধারে তারা ফাঁকা বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চাক্ষুষ তাণ্ডব চালায়। চোরেরা ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে একটি ৫২ ইঞ্চির মূল্যবান রঙিন এলইডি টেলিভিশন, একটি ভারী আইপিএস (IPS) এবং সেটির সচল ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মূল্যবান বৈদ্যুতিক ও গৃহস্থালি সামগ্রী চুরি করে নিয়ে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয়।
পারিবারিক সূত্রে বিষয়টি কলাপাড়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাকবলিত বাসভবনটি পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে একজন সাবেক কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট সমাজসেবকের বাড়িতে যদি এভাবে চুরির ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তাঁরা অবিলম্বে এই চোর চক্রটিকে গ্রেফতার করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় কলাপাড়া থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, চুরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি চলছিল। অতি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ফাইল ছবি সংগৃহীত।


