ফরিদপুরে হামের থাবা আরও ভয়ানক : ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরে হামের থাবা আরও ভয়ানক : ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর জেলা ও আশপাশের জেলাগুলোতে শিশুদের মাঝে হামের প্রকোপ ক্রমেই আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই অবুঝ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরও ৩০টি শিশু। আজ শুক্রবার (২৯ মে, ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে রয়েছে—রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হোসেনের মাত্র ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তান বা ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার হারুকান্দি এলাকার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের ৩ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু আব্দুল্লাহ। তারা দুজনই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হলো। মৃত ও আক্রান্ত শিশুদের সিংহভাগের বাড়ি ফরিদপুর জেলা এবং এর আশপাশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংক্রমণ রোধে ইতিমধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে, যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ২৯ মে পর্যন্ত ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৯৯২ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সঠিক চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা শেষে সুস্থ হয়ে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছে ১ হাজার ৮৩১ জন শিশু। সিভিল সার্জন আরও জানান, বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ১২৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৩ জন। হঠাৎ করে শিশুদের মাঝে হামের এমন বিস্তারে পুরো ফরিদপুর অঞ্চলের অভিভাবকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার এবং লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *