স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চাঞ্চল্যকর ও সম্পূর্ণ সূত্রহীন (ক্লুলেস) স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১৩) হত্যার রহস্য দীর্ঘ আট মাস পর উন্মোচন করেছে পুলিশ। প্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহার এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিখোঁজ হওয়ার আট মাস পর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘাতকরা শাকিবকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে পুকুরের তলদেশে ডুবিয়ে রেখেছিল। লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের কচুয়ায় ।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে জয়নগর গ্রামের গাজী বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে শাকিব হাসানকে কেউ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। ছেলের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন বাবা আব্দুল কাদের। নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর ২৪ নভেম্বর এক কৃষকের জমিতে মানুষের মাথার খুলি ও হাড় পাওয়া যায়। পুলিশ সেই দেহাবশেষ উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠালে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটিই নিখোঁজ শাকিবের কঙ্কাল।
ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ৭ মে শাকিবের বাবা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তদন্তে নামে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ মে জয়নগর গ্রাম থেকেই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আরমান গাজী (১৭) ও মো. মেহেদী হাসান গাজীকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা শাকিবকে হত্যার যে বর্ণনা দিয়েছে তা রীতিমতো লোমহর্ষক। তারা জানায়, পুকুরে গোসল করার সময় শাকিবকে পানির নিচে চুবিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি রশি দিয়ে পানির নিচে বেঁধে রাখা হয়। রাত গভীর হলে তারা মরদেহটি পানি থেকে তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে এবং ভারী ইটের সঙ্গে বেঁধে পুকুরের গভীর ডোবায় ডুবিয়ে দেয়, যাতে মরদেহ কখনো ভেসে না ওঠে। ঘাতকরা ভেবেছিল মরদেহটি আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যাবে না।
গত ১০ মে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, “এটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ না থাকায় মামলাটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ঘাতকদের শনাক্ত করতে পেরেছি। ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।


