থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাদক সাম্রাজ্য!

থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে মাদক সাম্রাজ্য!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন মৎস্য বন্দর মহিপুরে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) গাঁজা ও মাদক বিক্রির বিপুল নগদ টাকাসহ মো. ইব্রাহিম (৫২) নামে এক পেশাদার মাদক কারবারি ও তার স্ত্রী শারমিন বেগম (৪২) কে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) দুপুরের পর মহিপুর থানা ভবন থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত টিঅ্যান্ডটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম মহিপুর সদর ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানার এসআই জাকির হোসেন, এসআই মাসুদ খান এবং এসআই আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম নিজস্ব সোর্স ও তথ্যের ভিত্তিতে টিঅ্যান্ডটি এলাকার ওই মাদক আস্তানায় হানা দেয়। এ সময় স্থানীয় সচেতন জনতাও পুলিশকে চারপাশ থেকে ঘিরে সহযোগিতা করেন।

পরবর্তীতে ইব্রাহিমের বসতবাড়ি ও সংলগ্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা এবং গাঁজার পুরিয়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি কাঁচিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই সস্ত্রীক গ্রেপ্তার করা হয় ইব্রাহিমকে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মহিপুর থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, “গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম ওই অঞ্চলের একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন এই অভিযানে আমাদের দারুণভাবে তথ্য দিয়ে ও উপস্থিত থেকে সহায়তা করেছে।” এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মহিপুর থানায় একটি নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার এই সফল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মাদক মুক্ত মহিপুর গড়ার লক্ষ্যে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে থানা পুলিশের এই নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে আমরা সবসময় স্থানীয় সাধারণ জনগণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করি।”

এদিকে থানার নাকের ডগায় চলা এই মাদকের আখড়া গুঁড়িয়ে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মনে। মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করতে মৎস্য বন্দর এলাকায় পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *