চৌগাছায় শিশু শ্লীলতাহানির চেষ্টায় মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

চৌগাছায় শিশু শ্লীলতাহানির চেষ্টায় মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

​জাহিদ হাসান সোহান, চৌগাছা (যশোর):

যশোরের চৌগাছায় চতুর্থ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে আরিফুল ইসলাম (৩৮) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৪ জুলাই বেলা ১২টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতারকৃত আরিফুল ইসলাম উপজেলার টেঙ্গুরপুর জেটিকেইউ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং স্বরূপদাহ গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার রহিম বক্সের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আগামীকাল (৬ জুলাই) আদালতে পাঠানো হবে।

​পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৪ জুলাই দুপুরে স্বরূপদাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে টাকা ও খাবার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে আরিফুল। শিশুটি তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ভয়ে দৌড়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়। লম্পট শিক্ষক আরিফুলও তার পিছু পিছু ওই ছাত্রীর বাড়িতে হানা দেয়। নিজেকে রক্ষা করতে শিশুটি দ্রুত বাথরুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা লক করে দেয়। পরবর্তীতে মেয়ের মা বাড়িতে ফিরে আরিফুলকে উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন এবং বাথরুমের ভেতর থেকে মেয়ের কান্নার আওয়াজ পান।
​পরে শিশুটি তার বাবাকে বিস্তারিত জানালে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আরিফুলের পরিবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার জোর চেষ্টা চালায়। তবে সামাজিক চাপের মুখে না নুয়ে ওই রাতেই আনুমানিক ১২টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেফতারের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য অভিভাবকরা জানান, এই মাদ্রাসা শিক্ষকের চরিত্র অত্যন্ত কলঙ্কিত; এর আগেও তিনি একাধিক শিশুর সাথে একই ধরনের বিকৃত আচরণ করেছেন।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও প্রায় সমপর্যায়ের একটি জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়েছিলেন আরিফুল। সে সময় গণধোলাই ও আইনি ঝামেলা এড়াতে ওই ভুক্তভোগী মেয়ের সাথেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পরেই স্ত্রীকে এক লক্ষ টাকা দিয়ে জোরপূর্বক আপোষ-রফা করে বিদায় করে দেন এই চতুর শিক্ষক।

​এ বিষয়ে স্বরূপদাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সবুজ আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি। যদি ঘটনার সত্যতা থাকে, তবে একজন শিক্ষকের এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজ ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি এবং আসামিকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ১০ ধারায় (যৌন পীড়ন ও শ্লীলতাহানি) মামলা রুজু করা হয়েছে। আগামীকাল (৬ জুলাই) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।” প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *