স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক গৃহবধূর ছবি বিকৃত (এডিট) করে অশ্লীল ও মানহানিকর পোস্ট ছড়ানোর পর এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোনালি আক্তার স্মৃতি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে আজ রোববার (৫ জুলাই) যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি সোনালি আক্তার স্মৃতির সাথে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আসামি সোনালি আক্তার বাদী গৃহবধূর কিছু ব্যক্তিগত ছবি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীলভাবে এডিট বা বিকৃত করেন। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ও ভুয়া ছবিগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেন এবং বাদীর চরম মানহানি ঘটান। শুধু তাই নয়, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলা ও আর নতুন কোনো ছবি না ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসামি সোনালি আক্তার ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা নগদ চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ছবিগুলো আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, সামাজিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে তিনি প্রথমে এই সাইবার অপরাধের বিষয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে থানা পুলিশ সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড বা গ্রহণ না করায় বাধ্য হয়ে তিনি আজ সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণাদিসহ বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন।
যশোর আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর সম্মানহানি ও চাঁদাবাজির এই অভিযোগটি আদালত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। পিবিআই-এর একজন দক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে ছবি বিকৃতির উৎস ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে আদালতে দ্রুত সত্যতা সম্বলিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে যশোরে সাইবার বুলিং ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

