চৌগাছায় ইউপি সদস্যের অবরুদ্ধের ঘটনায় অপপ্রচারের মুখে পুলিশ

চৌগাছায় ইউপি সদস্যের অবরুদ্ধের ঘটনায় অপপ্রচারের মুখে পুলিশ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়িয়ালী গ্রামে ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাজু আহমেদকে (৩৮) স্থানীয় জনতার হাতেনাতে আটকে রাখার ঘটনার পর একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুন একটি স্থানীয় পত্রিকায় “পুলিশের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য সালিশে আপস” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং পুলিশকে বিতর্কিত করতেই একটি চক্র এই বানোয়াট তথ্য ছড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৭ জুন ২০২৬) ভোররাতে বাড়িয়ালী গ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ ও প্রবাসীর স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (২৮) আপত্তিকর অবস্থায় অবরুদ্ধ করার পর খবর পেয়ে দশপাখিয়া পুলিশ ক্যাম্প এবং চৌগাছা থানার জরুরি ডিউটি অফিসার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অবরুদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনাস্থলেই দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত গ্রামবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার এবং অভিযুক্তদের স্পষ্ট জানান, “আপনারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন, আমরা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।” কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে, ওই সময় প্রবাসীর স্ত্রী কিংবা অবরুদ্ধ মেম্বার রাজু আহমেদ—কোনো পক্ষই পুলিশের কাছে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

এমনকি এ বিষয়ে পরবর্তীতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও তার লোকজনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে, তারাও পুলিশের কাছে কোনো ধরনের পাল্টা অভিযোগ বা আইনি পদক্ষেপ নিতে রাজি হননি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। উভয় পক্ষ ও উপস্থিত স্থানীয় মাতব্বরেরা পুলিশকে সাফ বলে দেন, “এটি আমাদের গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আমরা এলাকার মানুষ ও মুরব্বিরা বসে স্থানীয়ভাবে এটি মীমাংসা করে নেব, আপনারা চলে যান।”

আইনগতভাবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা এজাহার না পাওয়ায় এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। অথচ পরবর্তীতে এলাকার কিছু চিহ্নিত সুবিধাবাদী লোক নিজেদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা সুপরিকল্পিতভাবে রটিয়েছে যে, পুলিশ নাকি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই অনৈতিক ঘটনার আপস-মীমাংসা করিয়ে দিয়েছে—যা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া বা সালিশ করার কোনো সুযোগ পুলিশের নেই। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ না দেন, তবে পুলিশের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হাত বাঁধা থাকে। আমি নিজে ঘটনাস্থলে থাকা অফিসারদের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে বারবার বলেছি লিখিত অভিযোগ দিতে, কিন্তু কেউ রাজি হননি। তারা সবাই একযোগে বলেছেন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করবেন। ফলে লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকে না।”

ওসি আরও বলেন, “এলাকার কিছু চিহ্নিত লোক নিজেদের ফায়দা লুটতে পুলিশের পেশাদার ভূমিকা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখনো যদি কোনো ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেন, তবে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক আচরণ গ্রামীণ সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তবে এই ঘটনাকে পুঁজি করে যারা প্রশাসনের ওপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। ছবি ভিডিও থেকে সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *