মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রতিবেশীর লাঠির আঘাতে একটি অবলা ছাগলছানা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুধু ছাগল পেটানোই নয়, এর প্রতিবাদ করায় এক বৃদ্ধাকে মারধরের চেষ্টা ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেলে আহত ছাগলছানাটি সাথে নিয়ে কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের সিংদাহ গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নবিরন নেছা (৬০) আজ বিকেলে কালীগঞ্জ থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জসিম (৬০), তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবিরন নেছার একটি ছোট ছাগলছানা অসাবধানতাবশত প্রতিবেশী জসিমের বাড়ির গেটের সামনে চলে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জসিম একটি শক্ত লাঠি দিয়ে ছাগলছানাটির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করেন। লাঠির উপর্যুপরি আঘাতে ছাগলছানাটি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ছাগলছানাটির চিৎকারে নবিরন নেছা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ছাগলটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখেন। অবলা প্রাণীটিকে এভাবে পেটানোর কারণ জানতে চাইলে জসিম তাঁর ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত জসিম বৃদ্ধা নবিরনকে মারধরের উদ্দেশ্যে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে আসেন। এ সময় বৃদ্ধার আত্মচিৎকারে স্থানীয় যুবক সাব্বিরসহ আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে রক্ষা করেন। তবে স্থানীয়দের উপস্থিতির কারণে মারধর করতে না পারলেও, জসিম প্রকাশ্যে নবিরন নেছাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বৃদ্ধা নবিরন নেছা জানান, “একটি অবলা প্রাণী ভুল করে গেটের সামনে যাওয়ায় সেটিকে যেভাবে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। এর বিচার চাইতে গেলে আমাকেও মারতে আসা হয়। এই ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের জানমালের নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আহত ছাগলছানাসহ এক বৃদ্ধা থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।


