স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার একটি বাসা থেকে এক শিশুসহ একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকালে এ ঘটনা জানাজানি হলে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগে, রোববার (১৭ মে) মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে নিথর দেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
এই রহস্যজনক ট্র্যাজেডির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ‘মিষ্টি বাড়ৈ’ নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ম্যাকাব্রে বা মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার চিন্ময় দাস, তাঁর স্ত্রী ইশা দাস এবং তাঁদের মাত্র ৮ মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুকন্যা।
পুলিশ হেফাজতে থাকা মিষ্টি বাড়ৈ নামের ওই নারী জানান, শহরের আমিরাবাদ এলাকার মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাসায় প্রায় তিন বছর ধরে ভাড়া থাকেন তিনি। মিষ্টি বাড়ৈ মূলত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈয়ের স্ত্রী এবং নিহতদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
তার দাবি অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় চিন্ময় দাস তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ইশা ও ৮ মাসের শিশুকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মাদারীপুর শহরে আসেন। তারা শহরে দু-একদিন থেকে চিকিৎসা করাবেন বলে মিষ্টির বাসায় ওঠার অনুমতি চান। পরে রাতে তারা ওই বাসার একটি কক্ষে ঘুমাতে যান।
মিষ্টি বাড়ৈ পুলিশকে আরও জানান, গভীর রাতে ওই কক্ষের দরজায় দীর্ঘক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে চরম সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে বিছানার ওপর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকালে নিহত চিন্ময় দাসের স্ত্রী ইশা দাসের হাতে চিকিৎসার ‘ক্যানোলা’ লাগানো ছিল। এ কারণে তাঁরা নিশ্চিত যে ইশা বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা লাশ উদ্ধারের সময় ঘরের ভেতর থেকে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ এবং কিছু সন্দেহভাজন ওষুধ ও রাসায়নিক উপাদান উদ্ধার করেছি। সেগুলো রাসায়নিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার সময় পাশের কক্ষে মিষ্টি বাড়ৈ সম্পূর্ণ একা ছিলেন। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা— তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে মিষ্টি বাড়ৈকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এ কারণে সোমবার দুপুরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
মাদারীপুর র্যাব ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মনির হোসেন জানান, র্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে একই সাথে তিনটি প্রাণ ঝরে গেল, তার নেপথ্যের মোটিভ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষার অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

