স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের অবুজ শিশু রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে ও শরীর টুকরো টুকরো করে হত্যার লোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের অবধারিত মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারকের নিকট এই সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু আদালতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, বিজ্ঞ আদালতের সামনে উপস্থাপিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, উদ্ধারকৃত রক্তাক্ত আলামত এবং ফরেনসিক ও অন্যান্য সমস্ত তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আনা পৈশাচিক অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সমাজ থেকে এমন অপরাধের মূলোৎপাটন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই নরপশু দম্পতির ফাঁসির কোনো বিকল্প নেই। চূড়ান্ত এই যুক্তিতর্ক শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে ঘাতক আসামি সোহেল রানার গ্রেফতার পরবর্তী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া সেই হাড়হিম করা ও রোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি হুবহু পড়ে শোনান, যা শুনে আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলের মাঝে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জবানবন্দিতে মাদকাসক্ত সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেছিল যে, সে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত এবং নিয়মিত মাদক সেবন করত। গত মে মাসে পাশের ফ্ল্যাটের ৮ বছরের শিশু রামিসা ঘরের বাইরে এলে সে কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নেয়। এরপর অবুজ শিশুটিকে জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে তীব্র চিৎকার দেয়। তখন সোহেল তার মুখ চেপে ধরে এবং পরনের ওড়না দিয়ে মুখ ও হাত বেঁধে তাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সে মারা গেছে ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে অত্যন্ত নৃশংসভাবে রামিসার মাথা কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পরবর্তীতে হাত কেটে আলাদা করার চেষ্টা চালায়। ঠিক সেই মুহূর্তে রামিসার মা বাইরে থেকে মেয়ের খোঁজে এসে বন্ধ দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখে ডাকাডাকি শুরু করলে ঘাতক সোহেল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং একটি সেলাইরেঞ্জ দিয়ে ঘরের জানালার লোহার গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ জুন) এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে এগিয়ে নিতে নিহত শিশু রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী এবং মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি প্রদান করেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরপরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর নিম্ন আদালতেও ঘাতক সোহেল রানা নিজের মুখে এই পাশবিক ধর্ষণ ও খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিল। পুরো দেশ কাঁপানো এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

