কাঁচা মরিচে আগুন, কেজি ৩২০টাকা!

কাঁচা মরিচে আগুন, কেজি ৩২০টাকা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

টানা অতিবৃষ্টি ও একাধিক হাতবদলের সুযোগে ফরিদপুরের বাজারে কাঁচা মরিচের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাষিদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা পাইকারি দরে কেনা কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে। ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ার বাহানায় দাম বাড়লেও বাজারে কোনো কার্যকর তদারকি নেই বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোক্তারা। তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দাবি করছে, বাজারে তাদের নিয়মিত মনিটরিং জোরদার রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বেশি মরিচ উৎপাদনকারী উপজেলা মধুখালীতে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে অধিকাংশ ক্ষেতের মরিচ গাছ পানির নিচে তলিয়ে পচে মারা গেছে। ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মধুখালীতে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে চাষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ গাছই নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে রায়পুর, জাহাপুর ও মেঘচামী ইউনিয়নের চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মরিচের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে রোপণ করা মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেতও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের এক  কৃষক  দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষের পেছনে যা খরচ হয়েছিল, তার অর্ধেক টাকাও উঠে আসেনি। সব গাছ মারা যাওয়ায় এখন বাধ্য হয়ে ক্ষেত পরিষ্কার করে ধানের আবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সার ও কীটনাশকের আকাশছোঁয়া দামের মাঝে সরকারের সরাসরি সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব।

অন্য দিকে মেঘচামীর বামুন্দি গ্রামের অপর এক কৃষক জানান, পাইকারি বাজারে প্রতি মণ মরিচ ৯ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৮০০ টাকা (কেজিপ্রতি প্রায় ২৪৫ টাকা) দরে বিক্রি হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে খুচরা বাজারে এসে সেই দামই কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় ঠেকছে। তবে মধুখালী বাজারের আড়তদারদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম কিছুটা বাড়লেও এখানে কোনো অবৈধ সিন্ডিকেট সক্রিয় নয়।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়লেও তদারকি সংস্থাগুলোর দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনের বাড়তি দামে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং আরও প্রায় মাসখানেক এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কোনো অসাদুপায় যাতে অবলম্বন না করা হয়, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব ইলাহী জানান, বৃষ্টিতে ৫০ শতাংশের বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাঁদের পুনর্বাসিত করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *