স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামে এক ডিগ্রির তৃতীয় বর্ষের কলেজছাত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি স্থানীয় আলফাডাঙ্গা সরকারি এম এ খালেক কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মাতব্বর ও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সামাজিক বিরোধ ও কোন্দল চলে আসছিল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সুমন শেখ মোটরসাইকেল চালিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি উকিল শেখের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের সরাসরি নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা সুমনকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
পরে তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ছুটে এসে সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সুমন শেখকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের খবর বড়ভাগ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সমর্থক ও সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত হোসাইন শেখসহ তাঁর পরিবারের পুরুষ সদস্য ও সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে পুনরায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।ছবি সংগৃহীত।


