ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সদরপুরে পারিবারিক সম্পর্কের চরম অবক্ষয় ও নৈতিক স্খলনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঘরে একা পেয়ে নিজ শাশুড়িকে (৪২) জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে বিপ্লব মাতুব্বর (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী নারী তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা চাইলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত জামাতাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে এই ন্যাক্কারজনক ও পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই শাশুড়ি শুক্রবার রাতে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে সম্পূর্ণ একা অবস্থান করছিলেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুবর্ণ সুযোগ ও সুনসান নীরবতার সুযোগ নিয়ে তাঁর মেয়ের জামাতা বিপ্লব মাতুব্বর গভীর রাতে ওত পেতে থেকে হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই সে ভেতর থেকে দরজার খিল এঁটে দেয় এবং শাশুড়ির চিৎকার ও মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
পাষণ্ড জামাতার পাশবিক নির্যাতন শেষে ভুক্তভোগী ওই নারী অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি লোকলজ্জার ভয় না করে এবং চতুর বিপ্লবের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিজের মোবাইল ফোন থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের কাছে বাঁচার আকুতি জানান ও ঘটনাটি অবহিত করেন।
৯৯৯ থেকে বার্তা পাওয়ার পরপরই সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় জরুরি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গভীর রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকেই ধর্ষক জামাতা বিপ্লব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এই স্পর্শকাতর ও ঘৃণ্য অপরাধের বিষয়ে সদরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, “৯৯৯ থেকে তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের ফোর্স ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। লম্পট বিপ্লব মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। শনিবার ভুক্তভোগী ওই নারীর শারীরিক ও ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর আদালতে চার্জশিট দাখিলসহ পরবর্তী চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।


