পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
রাজনৈতিক কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে বরগুনার পাথরঘাটায় যুবদল কর্মী নাসির হাওলাদারকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই পটুয়াখালী জেলা।
ঘটনার দেড় বছর পর মামলাটির পুনর্ তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক মো. রাব্বিকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের পুরো লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে গ্রেফতারকৃত রাব্বি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে পাথরঘাটা উপজেলায় বিএনপির এক সমাবেশ শেষে যুবদল কর্মী হাসান গাজী ও নাসির হাওলাদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাসান গাজী নাসিরকে “৫ আগস্টের পরের নেতা” বলে কটূক্তি করলে দুজনের মধ্যে মারামারি ও তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে হাসান গাজী তার সহযোগী রাব্বিসহ অন্য বন্ধুদের নিয়ে নাসিরকে হত্যার চক্রান্ত করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসান গাজী, রাব্বি, মাইনুল, হানিফ গাজীসহ একদল সন্ত্রাসী রামদা, বগিদা, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে একটি নির্জন স্থানে মোটরাসাইকেলযোগে ওত পেতে থাকে। নাসির একা পেয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায়। রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান নাসির হাওলাদার।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত নাসিরের পরিবার ৬ জনকে আসামি করে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১) দায়ের করে। তবে থানা পুলিশ তদন্ত শেষে মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে মাত্র ১ জন এজাহারনামীয় ও ১ জন নতুন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে বিতর্কিত চার্জশিট দাখিল করে। পুলিশি চার্জশিটে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করে নিহতের পরিবার।
পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পটুয়াখালী পিবিআই মামলাটির দায়িত্ব গ্রহণ করে গোপন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালী পিবিআইয়ের একটি চৌকস দল নারায়ণগঞ্জ থেকে মূল আসামি রাব্বিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, আদালতে রাব্বির স্বীকারোক্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর সহযোগীদের নাম ও তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


