বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক নবম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে মোহাম্মদ জলিলুর রহমান নামের এক অফিস সহকারী কাম শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপের সত্যতা মেলায় পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদ্যালয় সূত্র জানা গেছে, অভিযুক্ত জলিলুর রহমান প্রাতিষ্ঠানিক দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করতেন। সেই সুবাদে তিনি পৌর এলাকার পাঞ্জুপাড়া গ্রামে ওই ছাত্রীকে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যকার অনৈতিক সম্পর্কের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ গত ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ৩০ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দেন। এর ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জলিলুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের আদেশটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অনুলিপি হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে— ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রফা করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় ভিডিওটি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। এ ছাড়া অভিযুক্ত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অসামাজিক ও কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে জলিলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের অনুশাসন আমাদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার। অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছি এবং তার ভিত্তিতেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।”
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, “ঘটনাটি জানার পরই আমরা জরুরি বৈঠক ডেকে তদন্ত কমিটি করি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সম্মান ও শিক্ষার পরিবেশের জায়গায় কোনো ধরণের অনৈতিকতাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” ছবি সংগৃহীত।

